কাযা নামাজ আদায়ে তারতীব রক্ষা কর কি আবশ্যক? কাযা নামজ আদায় করতে হয় এর কোন দলীল আছে কী?
কাযা নামাজ আদায়ে তারতীব রক্ষা কর কি আবশ্যক? কাযা নামজ আদায় করতে হয় এর কোন দলীল আছে কী?
১. যদি কোনো এক ওয়াক্তের নামাজ কাজা হয়, তবে পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজের আগেই কাজা পড়ে নিতে হবে। যেমন- যদি কারো এশার নামাজ অথবা বিতির নামাজ কাজা হয়, তবে ফজরের নামাজের আগেই কাজা আদায় করে নিতে হবে। এশা বা বিতিরের নামাজ কাজা না পড়ে ফজর পড়লে ফরজ নামাজ হবে না। এরকম অবস্থায় এশা ও বিতিরের নামাজের কাজা আদায় করে নিয়ে পুনরায় ফজর নামাজ পড়তে হবে। এরকম যদি জোহর কাজা হয়, তবে আসর নামাজের আগে, আসর কাজা হলে মাগরিবের নামাজের আগে এবং মাগরিব কাজা হলে এশার নামাজের আগে পড়ে নিতে হবে।
২. কাজা না পড়েও ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়লে নামাজ হয়ে যায় এরকম অবস্থা ৩টি যেমন (১) কাজা নামাজ আদায় করতে গিয়ে যদি ওয়াক্তিয়া নামাজও কাজা হবার সম্ভাবনা থাকে (২) কাজা নামাজের কথা মনে না থাকলে (৩) পাঁচ ওয়াক্তের বেশী নামাজ কাজা হয়ে গেলে।
৩. ফজরের নামাজ পড়বার সময় কোনো ব্যক্তি যদি দেখে তার এশার নামাজ ও বিতির কাজা আছে। অথচ এশা ও বিতির কাজা পড়ে নিয়ে ফজর পড়তে গেলে ফজর নামাজের সময় চলে যায়,তখন সে ফজরের নামাজ পড়ে নিলে নামাজ হয়ে যাবে।
৪. জোহরের নামাজ পড়তে পড়তে অথবা নামাজ পড়া শেষে যদি কারো হঠাৎ মনে পড়ে তার ফজরের নামাজ কাজা ছিলো। এমতাবস্থায় তার জোহরের নামাজ হয়ে যাবে। পরে শুধু ফজরের কাজা পড়তে হবে।
৫. যদি কারো পাঁচ ওয়াক্তের বেশী নামাজ কাজা হয়ে যায় তখন কাজা নামাজ আদায় না করেও যদি কেউ ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়তে থাকে,তবে তার নামাজ হয়ে যাবে। তবে কাজা নামাজ এভাবে ফেলে না রেখে যত তাড়াতাড়ি পারা যায়,আদায় করে নিতে হবে।
এই নিয়মগুলো মানতে গিয়ে বর্তমানে আমার অনেক বেশী নামাজ পড়া হচ্ছে না। এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা হলে সেটা কষ্ট করে অন্য নামাজের আগে পড়ে নেই। কিন্তু যখন কোন কারনে পর-পর দুই ওয়াক্ত নামাজ কাজা হয়ে যায়, তখন পরবর্তী নামাজের ওয়াক্ত হলে আগেকার দুই ওয়াক্ত নামাজ বাধ্যতামূলক পড়ার কথা মনে হয়। ফলে আমি নামাজ পড়ার আগ্রহই হারিয়ে ফেলি। অনেক সময় গড়িমসি করতে করতে শেষ সময়ে গিয়ে নামাজ পড়ি। যেহেতু কাজা নামাজের নিয়মের মধ্যে লিখা আছে,” ২. কাজা না পড়েও ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়লে নামাজ হয়ে যায় এরকম অবস্থা ৩টি যেমন (১) কাজা নামাজ আদায় করতে গিয়ে যদি ওয়াক্তিয়া নামাজও কাজা হবার সম্ভাবনা থাকে। ……”
আবার অনেক সময় গড়িমসি করতে করতে ঐ ওয়াক্তটাও চলে যায়। তখন আর নামাজ না পড়ে,ইচ্ছা করেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কাজা করি। এরপর আবার নতুন করে নামাজ শুরু করি। যেহেতু কাজা নামাজের নিয়মের মধ্যে লিখা আছে, “৫. যদি কারো পাঁচ ওয়াক্তের বেশী নামাজ কাজা হয়ে যায় তখন কাজা নামাজ আদায় না করেও যদি কেউ ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়তে থাকে, তবে তার নামাজ হয়ে যাবে।”
এমতাবস্থায় আমার নামাজের পরিমান পুর্বের তুলনায় অনেক কমে গিয়েছে।
আমি জান্তে চাই যে,
1. কাজা নামাজ আদায়ের এই নিয়মগুলো কি আসলেই সঠিক ?
2. কুরআন বা হাদিসের আলোকে এ নিয়ম গুলোর দলীল অথবা রেফারেন্স কি ?
3. কুরআন বা হাদিসে যদি না থাকে,তাহলে ইজমার আলোকে কি এগুলোর রেফারেন্স আছে ?
4. অনেকে বলে থাকেন,কাজা নামাজ বলতে ইসলামে কিছু নাই,সে ব্যাপারে আপ্নার মতামত কি ?
5. কুরআন,হাদীস অথবা ইজমার আলোকে নিয়মগুলোর ভিত্তি যদি সঠিক হয়,তবে আমার এই সমস্যার কোন সমাধান আপনার কাছে জানা আছে কি ?
بسم الله الرحمن الرحيم
উত্তরঃ ( ১ ও ৫ ) সহেবে তারতীব অর্থাৎ বালেগ হবার পর থেকে যার জিম্মায় কোন কাজা নামাজ নেই। তার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও বেতের নামাজের মাঝে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক।(আদ্দুররুল মুখতার-২/৫২৩)
فيالدر المختار(2/523): الترتيب بين الفروض الخمسة والوتر أداء وقضاء لازم يفوت الجواز بفوته،
প্রশ্নে বর্ণিত নিয়মগুলো ঠিকই আছে তবে ৫নং নিয়মটা এমন হবে। কাযা হওয়া নামাজের সংখ্যা ছয়টি হয়ে ষষ্ঠ নামাজের সময় শেষ হয়ে যায়। তখন আর ধারাবাহিকতা রক্ষা করার আবশ্যকতা থাকেনা।
في الدر المختار( 2/525-527) : فلا يلزم الترتيب إذا ضاق الوقت المستحب حقيقة ….. (أو نسيت الفائتة) لأنه عذر (أو فاتت ست اعتقادية) لدخولها في حد التكرار المقتضي للحرج (بخروج وقت السادسة) على الأصح ولو متفرقة أو قديمة على المعتمد
আপনি অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছে করে নামাজ কাজা করেন বলে উল্লেখ করেছেন,যা মোটেও উচিৎ না। হাদীস শরীফে এসেছে,
عن أم أيمن أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا تترك الصلاة متعمدا فإنه من ترك الصلاة متعمدا فقد برئت منه ذمة الله ورسوله ( رواه أحمد في مسنده ، رقم : 27364)
উম্মে আইমান রা.হতে বর্ণিত,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,তোমরা ইচ্ছাকৃত নামাজ ত্যাগ করোনা। কেননা যে ইচ্ছাকৃত নামাজ ত্যাগ করে,আল্লাহ ও তদীয় রাসূল তার থেকে জিম্মা মুক্ত হয়ে যান। (মুসনাদে আহমদ,হাদীস নং ২৭৩৬৪)
নামাজকে যদি নিজের উপর বোঝা মনে করা হয় তাহলে তা আদায় করতে অনেক কষ্ট হবে। নামাজকে মাওলা পাকের সাথে নিজের সাক্ষাৎ মনে করলে কষ্ট অনেক লাঘব হবে। আপনি এব্যপারে কোন হক্কানী পীর মাশায়েখের সাথে পরামর্শ করতে পারেন, কিভাবে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। আরেকটি বিষয় হল, আপনি কাযা করার ভয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দেন যাতে আর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না হয়। অথচ কারো যদি এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা থাকে এমতাবস্থায় ছয়টি নামাজের ওয়াক্ত অতিক্রান্ত হয়ে যায়। তখন আর সে সাহেবে তারতীব থাকেনা। তার জন্য ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক না। তাই আপনার জিম্মায় যদি কোন নামাজ কাযা থেকে থাকে তাহলে সেগুলো আদাই করা শুরু করুন। যথা সম্ভব চেষ্টা করবেন নামাজ যেন সময় মত পড়া হয়। কষ্ট হলেও সময়ের নামাজ সময়ে আদায় করবেন। এই জামানায় কোন নামাজ কাযা নেই এমন লোকের সংখ্যা অত্যন্ত নগন্য। যারা এই সৌভাগ্যের অধিকারী আপনার কোন নামজ কাযা না থেকে থাকলে আপনিও সেই সৌভাগ্যশীলদের মাঝে একজন। আল্লাহ প্রদত্ব এই নেয়ামতের মূল্যায়ন করা উচিত।
(২ ও ৩ ) নামাজ না পড়ে ছেড়ে দেয়ার কথা আল্লাহর রাসূল ও তার সাহাবীদের যুগে মানুষ কল্পনাও করতে পারতনা। হাদীস শরিফে এসেছে,
سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول إن بين الرجل وبين الشرك والكفرترك الصلاة (رواه مسلم، برقم 82)
হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,একজন মুসলিম ও শিরক-কুফরের মাঝে পার্থক্য হল নামাজ ছেড়ে দেয়া। অর্থাৎ নামাজ ছেড়ে দেয়া মুসলিম ব্যক্তিকে কুফর ও শিরক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।(সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ৮২)
ঘটনা চক্রে যদি কখনো কারো নামাজ কাজা হত স্মরণ হবার সাথে সাথেই পড়ে নিতেন। কখনো দেরী করতেন না। ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যকতার ব্যাপারে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীদের আমল পাওয়া যায়।
عن عبد الله بن مسعود قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فحبسنا عن صلاة الظهر والعصر والمغرب والعشاء فاشتد ذلك علي فقلت في نفسي نحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي سبيل الله فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بلالا فأقام فصلى بنا الظهر ثم أقام فصلى بنا العصر ثم أقام فصلى بنا المغرب ثم أقام فصلى بنا العشاء ثم طاف علينا فقال ما على الأرض عصابة يذكرون الله عز وجل غيركم وقتها (رواه النسائي، رقم621)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা এই চার ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা হতে আমরা বাঁধাপ্রাপ্ত হলাম। এটা আমার নিকট কষ্টদায়ক হলো। মনে মনে ভাবলাম আমরা তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থেকে আল্লাহর পথে জিহাদ করছি (এরপরও কি আমাদের এরূপ দুর্ভাগ্য?) তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রা.) কে ইকামত দিতে আদেশ করলেন। ইকামত বললে আমাদের নিয়ে যোহরের সালাত আদায় করলেন। আবার ইকামত বললে আসরের নামাজ আদায় করলেন। আবার ইকামত বললে মাগরিবের নামাজ আদায় করলেন। পুনরায় ইকামত বললে ইশার নামাজ আদায় করলেন। তারপর আমাদের উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেনঃ ভূ-পৃষ্ঠে তোমাদের ছাড়া এমন কোন জামাত নেই যারা আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে। (নাসায়ী শরীফ;৬২১ নং হাদীস)
عن أبي سعيد عن قال شغلنا المشركون يوم الخندق عن صلاة الظهر حتى غربت الشمس وذلك قبل أن ينزل في القتال ما نزل فأنزل الله عز وجل {وكفى الله المؤمنين القتال} فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بلالا فأقام لصلاة الظهر فصلاها كما كان يصليها لوقتها ثم أقام للعصر فصلاها كما كان يصليها في وقتها ثم أذن للمغرب فصلاها كما كان يصليها في وقتها (رواه النسائي، رقم 660)
হযরত আবু সাইদ রা. হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধে মুশরিকরা আমাদের যোহরের নামাজ থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত বিরত বিরত রেখেছিল। সেটা যুদ্ধের সময় সালাতুল খওফ সম্পর্কিত আযাত অবতীর্ণ হবার আগের ঘটনা। তারপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “যুদ্ধে মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট”। (সূরা আহযাব,আয়াতঃ ২৫)
তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল রা.কে ইকামত দেয়ার আদেশ করেন। তিনি যোহরের সালাতের ইকামত দেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের আসল ওয়াক্তে আদায় করার মত যোহরের কাযা নামাজ আদায় করেন। পরে আসরের জন্য ইকামত বলা হয়। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন নামাজের আসল ওয়াক্তের মত আসরের কাযা নামাজ আদায় করেন। তারপর মাগরিবের আযান দেয়া হয় এবং তা নির্ধারিত সময়ে আদায় করার মত আদায় করেন। (নাসায়ী শরিফ;৬৬০ নং হাদীস)
হাদীসের বহু প্রসিদ্ধ কিতাবে এ ঘটনার উল্লেখ আছে। এই হাদীসে রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের নামাজ ছুটে যাবার পর তারা সকলে ধারাবাহিক ভাবে ছুটে যাওয়া নামাজ পড়েছেন। ২য় হাদীস দ্বারা এটাও বুঝা যাচ্ছে সূর্য ডুবার পরও পূর্বের কাযা নামাজ পড়ে এরপর মাগরিবের নামাজ পড়েছেন। এই হাদীস থেকেই গবেষক মুজতাহিদ ইমামগণ ছুটে যাওয়া নামাজে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক, একথা বলে থাকেন।
হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের নিকটই নামাজে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক।
في الموسوعة الفقهية الكويتية (11/ 164 (الترتيب في قضاء الفوائت: جمهور الفقهاء من الحنفية والمالكية والحنابلة قالوا بوجوب الترتيب بين الصلوات الفائتة، وبينها وبين الصلاة الوقتية إذا اتسع الوقت. فمن فاتته صلاة أو صلوات وهو في وقت أخرى، فعليه أن يبدأ بقضاء الفوائت مرتبة،
(৪) কাযা নামাজ বলতে ইসলামে কিছুই না থাকলে রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবাগণ (রাযি.) কেন কাযা নামাজ আদায় করলেন? তাদের সকলের আমলও কী ইসলামের কোন বিষয় হিসেবে গণ্য হবেনা?
عن أنس بن مالك قال قال نبى الله -صلى الله عليه وسلم- « من نسى صلاة أو نام عنها فكفارتها أن يصليها إذا ذكرها ». (رواه البخاري، رقم597، رواه مسلم، رقم 584)
হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. হতে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নামাজের কথা ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে থাকে, তার কাফফারা হল যখন তার নামাজের কথা স্মরণ হবে তখন তা আদায় করা। (সহিহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৮৪)
সহীহ মুসলিমের অন্য এক হাদীসে এসেছে,
عن أنس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا رقد أحدكم عن الصلاة أو غفل عنها فليصلها إذا ذكرها فإن الله يقول أقم الصلاة لذكري(رواه مسلم، رقم684)
হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. হতে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,যখন তোমাদের কেউ নামাজ ছেড়ে ঘুমিয়ে পড়ে বা নামাজ থেকে গাফেল হয়ে যায় তো যখন তার বোধোদয় হবে তখন সে যেন তা আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, أقم الصلاة لذكري “আমাকে স্মরণ হলে নামাজ আদায় কর”[সূরা তহাঃ ১৪]।(হাদীস নং ৬৮৪)
এই হাদীস গুলো দিয়ে বুঝা যাচ্ছে নামাজ কাযা হয়ে গেলে তা আদায় করে নিতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তা করেছেন ও করতে বলেছেন, সাহাবীরাও তা করেছেন। এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল কুরআনের আয়া্তাংশটি উল্লেখ করেছেন, যাতে বুঝাগেল এই আয়াতেও কাযা নামাজ আদায় করার বিধানটি অন্তরভুক্ত আছে। অর্থাৎ ‘আমাকে স্মরণ হলে নামাজ আদায় কর’। যখন এই ফরজ দায়িত্বের ব্যাপারে বোধোদয় হবে তখন তা আদায় করা তার জন্য অত্যাবশ্যক। আর এক জন মুমিন কখনো আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল থাকতে পারে না। তাই কাযা নামাজ আদায় করে নেয়া একজন মুমিনের কর্তব্য।
ইবনে আব্দুল বার এব্যপারে উম্মতের ইজমা নকল করেছেন,
في الاستذكار (1/ (302 -303ومن الدليل على أن الصلاة تصلى وتقضى بعد خروج وقتها كالصائم سواء وإن كان إجماع الأمة الذين أمر من شذ منهم بالرجوع إليهم وترك الخروج عن سبيلهم يغني عن الدليل في ذلك قوله صلى الله عليه وسلم …………
ফরজ রোজার মত ফরজ নামাজেরও সময় অতিবাহিত হবার পর কাযা করতে হয়। এ ব্যাপারে যদিও উম্মতের ইজমাই দলিল হিসেবে যথেষ্ট।যার অনুসরণ করা ঐ সকল বিচ্ছিন্ন মতের প্রবক্তাদের জন্যও অপরিহার্য ছিল- তারপরও কিছু দলিল উল্লেখ করা হল।………(আল ইসতিযকার ১/৩০২-৩০৩) এরপর তিনি হাদীসের দলীল উল্লেখ করেন।
এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল কুরআন সুন্নাহ ও ইজমার আলোকে কাযা নামাজের বিষয়টি সুপ্রমানিত। এর অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। আশা করি “কাজা নামাজ বলতে ইসলামে কিছু নাই” এরকম উদ্ভট কথা বিশ্বাস করার আর কোন যৌক্তিকতা নেই। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের সহীহ বুঝ দান করুক। আমীন।
২. কাজা না পড়েও ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়লে নামাজ হয়ে যায় এরকম অবস্থা ৩টি যেমন (১) কাজা নামাজ আদায় করতে গিয়ে যদি ওয়াক্তিয়া নামাজও কাজা হবার সম্ভাবনা থাকে (২) কাজা নামাজের কথা মনে না থাকলে (৩) পাঁচ ওয়াক্তের বেশী নামাজ কাজা হয়ে গেলে।
৩. ফজরের নামাজ পড়বার সময় কোনো ব্যক্তি যদি দেখে তার এশার নামাজ ও বিতির কাজা আছে। অথচ এশা ও বিতির কাজা পড়ে নিয়ে ফজর পড়তে গেলে ফজর নামাজের সময় চলে যায়,তখন সে ফজরের নামাজ পড়ে নিলে নামাজ হয়ে যাবে।
৪. জোহরের নামাজ পড়তে পড়তে অথবা নামাজ পড়া শেষে যদি কারো হঠাৎ মনে পড়ে তার ফজরের নামাজ কাজা ছিলো। এমতাবস্থায় তার জোহরের নামাজ হয়ে যাবে। পরে শুধু ফজরের কাজা পড়তে হবে।
৫. যদি কারো পাঁচ ওয়াক্তের বেশী নামাজ কাজা হয়ে যায় তখন কাজা নামাজ আদায় না করেও যদি কেউ ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়তে থাকে,তবে তার নামাজ হয়ে যাবে। তবে কাজা নামাজ এভাবে ফেলে না রেখে যত তাড়াতাড়ি পারা যায়,আদায় করে নিতে হবে।
এই নিয়মগুলো মানতে গিয়ে বর্তমানে আমার অনেক বেশী নামাজ পড়া হচ্ছে না। এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা হলে সেটা কষ্ট করে অন্য নামাজের আগে পড়ে নেই। কিন্তু যখন কোন কারনে পর-পর দুই ওয়াক্ত নামাজ কাজা হয়ে যায়, তখন পরবর্তী নামাজের ওয়াক্ত হলে আগেকার দুই ওয়াক্ত নামাজ বাধ্যতামূলক পড়ার কথা মনে হয়। ফলে আমি নামাজ পড়ার আগ্রহই হারিয়ে ফেলি। অনেক সময় গড়িমসি করতে করতে শেষ সময়ে গিয়ে নামাজ পড়ি। যেহেতু কাজা নামাজের নিয়মের মধ্যে লিখা আছে,” ২. কাজা না পড়েও ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়লে নামাজ হয়ে যায় এরকম অবস্থা ৩টি যেমন (১) কাজা নামাজ আদায় করতে গিয়ে যদি ওয়াক্তিয়া নামাজও কাজা হবার সম্ভাবনা থাকে। ……”
আবার অনেক সময় গড়িমসি করতে করতে ঐ ওয়াক্তটাও চলে যায়। তখন আর নামাজ না পড়ে,ইচ্ছা করেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কাজা করি। এরপর আবার নতুন করে নামাজ শুরু করি। যেহেতু কাজা নামাজের নিয়মের মধ্যে লিখা আছে, “৫. যদি কারো পাঁচ ওয়াক্তের বেশী নামাজ কাজা হয়ে যায় তখন কাজা নামাজ আদায় না করেও যদি কেউ ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়তে থাকে, তবে তার নামাজ হয়ে যাবে।”
এমতাবস্থায় আমার নামাজের পরিমান পুর্বের তুলনায় অনেক কমে গিয়েছে।
আমি জান্তে চাই যে,
1. কাজা নামাজ আদায়ের এই নিয়মগুলো কি আসলেই সঠিক ?
2. কুরআন বা হাদিসের আলোকে এ নিয়ম গুলোর দলীল অথবা রেফারেন্স কি ?
3. কুরআন বা হাদিসে যদি না থাকে,তাহলে ইজমার আলোকে কি এগুলোর রেফারেন্স আছে ?
4. অনেকে বলে থাকেন,কাজা নামাজ বলতে ইসলামে কিছু নাই,সে ব্যাপারে আপ্নার মতামত কি ?
5. কুরআন,হাদীস অথবা ইজমার আলোকে নিয়মগুলোর ভিত্তি যদি সঠিক হয়,তবে আমার এই সমস্যার কোন সমাধান আপনার কাছে জানা আছে কি ?
بسم الله الرحمن الرحيم
উত্তরঃ ( ১ ও ৫ ) সহেবে তারতীব অর্থাৎ বালেগ হবার পর থেকে যার জিম্মায় কোন কাজা নামাজ নেই। তার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও বেতের নামাজের মাঝে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক।(আদ্দুররুল মুখতার-২/৫২৩)
فيالدر المختار(2/523): الترتيب بين الفروض الخمسة والوتر أداء وقضاء لازم يفوت الجواز بفوته،
প্রশ্নে বর্ণিত নিয়মগুলো ঠিকই আছে তবে ৫নং নিয়মটা এমন হবে। কাযা হওয়া নামাজের সংখ্যা ছয়টি হয়ে ষষ্ঠ নামাজের সময় শেষ হয়ে যায়। তখন আর ধারাবাহিকতা রক্ষা করার আবশ্যকতা থাকেনা।
في الدر المختار( 2/525-527) : فلا يلزم الترتيب إذا ضاق الوقت المستحب حقيقة ….. (أو نسيت الفائتة) لأنه عذر (أو فاتت ست اعتقادية) لدخولها في حد التكرار المقتضي للحرج (بخروج وقت السادسة) على الأصح ولو متفرقة أو قديمة على المعتمد
আপনি অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছে করে নামাজ কাজা করেন বলে উল্লেখ করেছেন,যা মোটেও উচিৎ না। হাদীস শরীফে এসেছে,
عن أم أيمن أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا تترك الصلاة متعمدا فإنه من ترك الصلاة متعمدا فقد برئت منه ذمة الله ورسوله ( رواه أحمد في مسنده ، رقم : 27364)
উম্মে আইমান রা.হতে বর্ণিত,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,তোমরা ইচ্ছাকৃত নামাজ ত্যাগ করোনা। কেননা যে ইচ্ছাকৃত নামাজ ত্যাগ করে,আল্লাহ ও তদীয় রাসূল তার থেকে জিম্মা মুক্ত হয়ে যান। (মুসনাদে আহমদ,হাদীস নং ২৭৩৬৪)
নামাজকে যদি নিজের উপর বোঝা মনে করা হয় তাহলে তা আদায় করতে অনেক কষ্ট হবে। নামাজকে মাওলা পাকের সাথে নিজের সাক্ষাৎ মনে করলে কষ্ট অনেক লাঘব হবে। আপনি এব্যপারে কোন হক্কানী পীর মাশায়েখের সাথে পরামর্শ করতে পারেন, কিভাবে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। আরেকটি বিষয় হল, আপনি কাযা করার ভয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দেন যাতে আর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না হয়। অথচ কারো যদি এক ওয়াক্ত নামাজ কাজা থাকে এমতাবস্থায় ছয়টি নামাজের ওয়াক্ত অতিক্রান্ত হয়ে যায়। তখন আর সে সাহেবে তারতীব থাকেনা। তার জন্য ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক না। তাই আপনার জিম্মায় যদি কোন নামাজ কাযা থেকে থাকে তাহলে সেগুলো আদাই করা শুরু করুন। যথা সম্ভব চেষ্টা করবেন নামাজ যেন সময় মত পড়া হয়। কষ্ট হলেও সময়ের নামাজ সময়ে আদায় করবেন। এই জামানায় কোন নামাজ কাযা নেই এমন লোকের সংখ্যা অত্যন্ত নগন্য। যারা এই সৌভাগ্যের অধিকারী আপনার কোন নামজ কাযা না থেকে থাকলে আপনিও সেই সৌভাগ্যশীলদের মাঝে একজন। আল্লাহ প্রদত্ব এই নেয়ামতের মূল্যায়ন করা উচিত।
(২ ও ৩ ) নামাজ না পড়ে ছেড়ে দেয়ার কথা আল্লাহর রাসূল ও তার সাহাবীদের যুগে মানুষ কল্পনাও করতে পারতনা। হাদীস শরিফে এসেছে,
سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول إن بين الرجل وبين الشرك والكفرترك الصلاة (رواه مسلم، برقم 82)
হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,একজন মুসলিম ও শিরক-কুফরের মাঝে পার্থক্য হল নামাজ ছেড়ে দেয়া। অর্থাৎ নামাজ ছেড়ে দেয়া মুসলিম ব্যক্তিকে কুফর ও শিরক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।(সহীহ মুসলিম,হাদীস নং ৮২)
ঘটনা চক্রে যদি কখনো কারো নামাজ কাজা হত স্মরণ হবার সাথে সাথেই পড়ে নিতেন। কখনো দেরী করতেন না। ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যকতার ব্যাপারে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীদের আমল পাওয়া যায়।
عن عبد الله بن مسعود قال كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فحبسنا عن صلاة الظهر والعصر والمغرب والعشاء فاشتد ذلك علي فقلت في نفسي نحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي سبيل الله فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بلالا فأقام فصلى بنا الظهر ثم أقام فصلى بنا العصر ثم أقام فصلى بنا المغرب ثم أقام فصلى بنا العشاء ثم طاف علينا فقال ما على الأرض عصابة يذكرون الله عز وجل غيركم وقتها (رواه النسائي، رقم621)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা এই চার ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা হতে আমরা বাঁধাপ্রাপ্ত হলাম। এটা আমার নিকট কষ্টদায়ক হলো। মনে মনে ভাবলাম আমরা তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থেকে আল্লাহর পথে জিহাদ করছি (এরপরও কি আমাদের এরূপ দুর্ভাগ্য?) তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রা.) কে ইকামত দিতে আদেশ করলেন। ইকামত বললে আমাদের নিয়ে যোহরের সালাত আদায় করলেন। আবার ইকামত বললে আসরের নামাজ আদায় করলেন। আবার ইকামত বললে মাগরিবের নামাজ আদায় করলেন। পুনরায় ইকামত বললে ইশার নামাজ আদায় করলেন। তারপর আমাদের উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেনঃ ভূ-পৃষ্ঠে তোমাদের ছাড়া এমন কোন জামাত নেই যারা আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে। (নাসায়ী শরীফ;৬২১ নং হাদীস)
عن أبي سعيد عن قال شغلنا المشركون يوم الخندق عن صلاة الظهر حتى غربت الشمس وذلك قبل أن ينزل في القتال ما نزل فأنزل الله عز وجل {وكفى الله المؤمنين القتال} فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بلالا فأقام لصلاة الظهر فصلاها كما كان يصليها لوقتها ثم أقام للعصر فصلاها كما كان يصليها في وقتها ثم أذن للمغرب فصلاها كما كان يصليها في وقتها (رواه النسائي، رقم 660)
হযরত আবু সাইদ রা. হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধে মুশরিকরা আমাদের যোহরের নামাজ থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত বিরত বিরত রেখেছিল। সেটা যুদ্ধের সময় সালাতুল খওফ সম্পর্কিত আযাত অবতীর্ণ হবার আগের ঘটনা। তারপর আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “যুদ্ধে মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট”। (সূরা আহযাব,আয়াতঃ ২৫)
তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল রা.কে ইকামত দেয়ার আদেশ করেন। তিনি যোহরের সালাতের ইকামত দেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের আসল ওয়াক্তে আদায় করার মত যোহরের কাযা নামাজ আদায় করেন। পরে আসরের জন্য ইকামত বলা হয়। নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন নামাজের আসল ওয়াক্তের মত আসরের কাযা নামাজ আদায় করেন। তারপর মাগরিবের আযান দেয়া হয় এবং তা নির্ধারিত সময়ে আদায় করার মত আদায় করেন। (নাসায়ী শরিফ;৬৬০ নং হাদীস)
হাদীসের বহু প্রসিদ্ধ কিতাবে এ ঘটনার উল্লেখ আছে। এই হাদীসে রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের নামাজ ছুটে যাবার পর তারা সকলে ধারাবাহিক ভাবে ছুটে যাওয়া নামাজ পড়েছেন। ২য় হাদীস দ্বারা এটাও বুঝা যাচ্ছে সূর্য ডুবার পরও পূর্বের কাযা নামাজ পড়ে এরপর মাগরিবের নামাজ পড়েছেন। এই হাদীস থেকেই গবেষক মুজতাহিদ ইমামগণ ছুটে যাওয়া নামাজে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক, একথা বলে থাকেন।
হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের নিকটই নামাজে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক।
في الموسوعة الفقهية الكويتية (11/ 164 (الترتيب في قضاء الفوائت: جمهور الفقهاء من الحنفية والمالكية والحنابلة قالوا بوجوب الترتيب بين الصلوات الفائتة، وبينها وبين الصلاة الوقتية إذا اتسع الوقت. فمن فاتته صلاة أو صلوات وهو في وقت أخرى، فعليه أن يبدأ بقضاء الفوائت مرتبة،
(৪) কাযা নামাজ বলতে ইসলামে কিছুই না থাকলে রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবাগণ (রাযি.) কেন কাযা নামাজ আদায় করলেন? তাদের সকলের আমলও কী ইসলামের কোন বিষয় হিসেবে গণ্য হবেনা?
عن أنس بن مالك قال قال نبى الله -صلى الله عليه وسلم- « من نسى صلاة أو نام عنها فكفارتها أن يصليها إذا ذكرها ». (رواه البخاري، رقم597، رواه مسلم، رقم 584)
হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. হতে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নামাজের কথা ভুলে যায় বা ঘুমিয়ে থাকে, তার কাফফারা হল যখন তার নামাজের কথা স্মরণ হবে তখন তা আদায় করা। (সহিহ বুখারী, হাদীস নং ৫৯৭, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৮৪)
সহীহ মুসলিমের অন্য এক হাদীসে এসেছে,
عن أنس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا رقد أحدكم عن الصلاة أو غفل عنها فليصلها إذا ذكرها فإن الله يقول أقم الصلاة لذكري(رواه مسلم، رقم684)
হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. হতে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,যখন তোমাদের কেউ নামাজ ছেড়ে ঘুমিয়ে পড়ে বা নামাজ থেকে গাফেল হয়ে যায় তো যখন তার বোধোদয় হবে তখন সে যেন তা আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, أقم الصلاة لذكري “আমাকে স্মরণ হলে নামাজ আদায় কর”[সূরা তহাঃ ১৪]।(হাদীস নং ৬৮৪)
এই হাদীস গুলো দিয়ে বুঝা যাচ্ছে নামাজ কাযা হয়ে গেলে তা আদায় করে নিতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তা করেছেন ও করতে বলেছেন, সাহাবীরাও তা করেছেন। এই হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল কুরআনের আয়া্তাংশটি উল্লেখ করেছেন, যাতে বুঝাগেল এই আয়াতেও কাযা নামাজ আদায় করার বিধানটি অন্তরভুক্ত আছে। অর্থাৎ ‘আমাকে স্মরণ হলে নামাজ আদায় কর’। যখন এই ফরজ দায়িত্বের ব্যাপারে বোধোদয় হবে তখন তা আদায় করা তার জন্য অত্যাবশ্যক। আর এক জন মুমিন কখনো আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল থাকতে পারে না। তাই কাযা নামাজ আদায় করে নেয়া একজন মুমিনের কর্তব্য।
ইবনে আব্দুল বার এব্যপারে উম্মতের ইজমা নকল করেছেন,
في الاستذكار (1/ (302 -303ومن الدليل على أن الصلاة تصلى وتقضى بعد خروج وقتها كالصائم سواء وإن كان إجماع الأمة الذين أمر من شذ منهم بالرجوع إليهم وترك الخروج عن سبيلهم يغني عن الدليل في ذلك قوله صلى الله عليه وسلم …………
ফরজ রোজার মত ফরজ নামাজেরও সময় অতিবাহিত হবার পর কাযা করতে হয়। এ ব্যাপারে যদিও উম্মতের ইজমাই দলিল হিসেবে যথেষ্ট।যার অনুসরণ করা ঐ সকল বিচ্ছিন্ন মতের প্রবক্তাদের জন্যও অপরিহার্য ছিল- তারপরও কিছু দলিল উল্লেখ করা হল।………(আল ইসতিযকার ১/৩০২-৩০৩) এরপর তিনি হাদীসের দলীল উল্লেখ করেন।
এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল কুরআন সুন্নাহ ও ইজমার আলোকে কাযা নামাজের বিষয়টি সুপ্রমানিত। এর অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। আশা করি “কাজা নামাজ বলতে ইসলামে কিছু নাই” এরকম উদ্ভট কথা বিশ্বাস করার আর কোন যৌক্তিকতা নেই। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের সহীহ বুঝ দান করুক। আমীন।
Comments
Post a Comment